logo

ইরানে হামলার পর আড়াই লাখ কোটি ডলার হারিয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার

ইরানে হামলার পর আড়াই লাখ কোটি ডলার হারিয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার

যুদ্ধ গড়িয়েছে ১৫ দিনে, কত দিন চলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেউ কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ। এমন অবস্থায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে তেলের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। ইরানে হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দেশটির শেয়ারবাজার বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে আড়াই লাখ কোটি ডলার হারিয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, মার্কিন শেয়ারবাজারের বড় কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স নির্দেশক সূচক ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’-এর আবারও পতন হয়েছে।  

সবশেষ তথ্যানুযায়ী, সূচকটি শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৬৩২.১৯ পয়েন্টে আটকে আছে। এতে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সূচকটি প্রায় ৫ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত এটিই এর সর্বনিম্ন অবস্থান।

এই সূচকটি মার্কিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটির অধিকাংশ অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাব, পেনশন তহবিল এবং বিনিয়োগ তহবিল এই সূচকের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শেয়ারবাজারে এই পতন যুদ্ধ শুরুর আগের দিন (২৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে। ওই দিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৬ হাজার ৮৭৮.৮৮ পয়েন্টে ছিল। এরপর থেকে সূচক প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গেছে।

এই পতনের ফলে গত দুই সপ্তাহে এসঅ্যান্ডপি ৫০০–এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য থেকে আনুমানিক ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে। কারণ, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।

পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর বদলা নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করে।

গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।