রুবেলের যে ঘটনায় কেঁপেছে গোটা রোমানিয়া

ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় ভাগ্য বদলাতে গিয়ে উল্টো মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি। আর সেখানে গিয়ে চরম হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়া এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেই চরম বিপাকে পড়েন রুবেল নামের এক বাংলাদেশি যুবক। ভুক্তভোগী প্রবাসীদের পক্ষে সোচ্চার হওয়া এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খোলাই যেন শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য।
একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করে চালানো হয় পৈশাচিক নির্যাতন। নির্যাতনের পরও থেমে থাকেনি অভিযুক্তরা। রুবেলকে উলঙ্গ করে নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সহায়তা চেয়ে রোমানিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হন তিনি। তবে রুবেলের অভিযোগ, সহায়তা পাওয়ার পরিবর্তে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে রোমানিয়া সরকারের কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
রুবেলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া যখন প্রায় চূড়ান্ত, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়ায় রোমানিয়ার একটি মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা—আইওএম (IOM)। তাদের সহযোগিতায় রুবেল দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
অবৈধ প্রবাসীদের সুখবর দিল রোমানিয়া
রুবেলের অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা রোমানিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির আড়ালে মানবপাচারের অভিযোগও সামনে আসে।
এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে রোমানিয়ার প্রশাসন। তদন্তে নামে দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ‘ডিরেক্টোরেট ফর ইনভেস্টিগেটিং অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড টেরোরিজম বা ‘সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ তদন্ত অধিদপ্তর’ রুবেলের ঘটনাটি তদন্ত করেছে। একপর্যায়ে চার বাংলাদেশি ও এক রোমানীয় নারীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে জয়ী হন রুবেল। পরবর্তী সময়ে রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাসাইলাম বা আশ্রয় প্রদান করে। রুবেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোমানিয়াজুড়ে এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
রুবেলের প্রত্যাশা, রোমানিয়া সরকারের মতো বাংলাদেশ সরকারও তার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। তার মতে, এ ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে রোমানিয়ায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও মানবপাচারের অভিযোগে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যেসব চক্রের কর্মকাণ্ডের কারণে রোমানিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা যাবে।
