logo

শিল্পকলার মঞ্চে সেলিম আল দীনের ‘যৈবতী কন্যার মন’ ও ‘ধাবমান’

শিল্পকলার মঞ্চে সেলিম আল দীনের ‘যৈবতী কন্যার মন’ ও ‘ধাবমান’
‘যৈবতী কন্যার মন’ ও ‘ধাবমান’ নাটকের পোস্টার ও কিছু দৃশ্য

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনকে স্মরণ করে দুটি নাটক নিয়ে চারটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগ। ‘স্মরণে সেলিম আল দীন’ শিরোনামের এ আয়োজনে মঞ্চস্থ হবে তার কালজয়ী নাটক ‘যৈবতী কন্যার মন’ ও আলোচিত নাটক ‘ধাবমান’।

২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হবে প্রদর্শনীগুলো। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে নাটকের প্রদর্শনী।

আয়োজনের প্রথম দুই দিন, ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হবে ‘যৈবতী কন্যার মন’। নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন আফরিন হুদা তোড়া। এরপর ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর একই সময়ে মঞ্চস্থ হবে ‘ধাবমান’। এ নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন কৃপাকণা তালুকদার।

‘যৈবতী কন্যার মন’-এর গল্পে উঠে এসেছে অষ্টাদশ শতকের বাংলার একটি জনপদের মানুষের জীবন, বিশ্বাস ও সামাজিক বাস্তবতা। লোকাচার ও ধর্মীয় বিশ্বাসের আবহে বেড়ে ওঠা কালিন্দীর জীবনে শংকর ও আলালের আগমন তৈরি করে প্রেম, পরিচয় ও বিশ্বাসের নানা দ্বন্দ্ব। ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক বিধিনিষেধ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি। শেষ পর্যন্ত মানুষের পরিচয়ের ক্ষেত্রে ধর্মের বাইরের মানবিক সত্তাকেই সামনে নিয়ে আসে নাটকটি।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন দূর্বা, শিউল, পারিহান, ইলমা, শিফা, অথৈ, আয়াত, সিথী, শুভ, সাবায়েত, সানজিদ, প্রত্যয়, দুর্জয়, মাহাবুব, জয়ীতা, শায়ক, মোশারফ ও মিতালী।

‘যৈবতী কন্যার মন’ নাটকটি নিয়ে এর নির্দেশক আফরিন হুদা তোড়া বলেন, সেলিম আল দীনের কাব্যময় ভাষা ও মানবপ্রেমের দর্শনকে মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কালিন্দীর প্রেম, আকুতি ও অস্তিত্বের সংকটের মধ্য দিয়ে ধর্ম, পরিচয় ও মানবিকতার প্রশ্নগুলোও দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, ‘ধাবমান’ নাটকের গল্পে উঠে এসেছে মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণীর মধ্যকার গভীর সম্পর্কের আখ্যান। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সোহরাবকে ঘিরে নহবত ও তার পরিবারের জীবনে তৈরি হয় মমতা, ভালোবাসা ও টানাপোড়েন। সময়ের সঙ্গে সোহরাবের প্রতি নহবতের গভীর মায়া তৈরি হলেও পারিবারিক বাস্তবতা ও নিজের সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধের কাছে একসময় তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্ক, প্রকৃতির প্রতি মানুষের মমতা এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনি।

‘ধাবমান’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন মো. অমিত হাসান জিসান, সপ্তর্ষি মণ্ডল, শ্রীকান্ত মণ্ডল, রাহুল মণ্ডল, মেহেরুন নেসা, অমর্ত্য দে, মুক্তিকা দাস প্রভা, নাফিসা সুলতানা, তপস্যা সরকার, রাতিয়া মনি, প্রিয়াংকা বাড়ৈ পুথা, রহমান আনিস, দ্বিতীয়া বাগচী, পরশি মিয়া, টনিরাম সরকার, নওশাদ রহমান, ফরাজী মোহাম্মদ জাবেদ, ত্রিতম ভৌমিক তীর্থ, শুভ নাথ ও তিথি ঘোষ।

নাটকটি নিয়ে এর নির্দেশক কৃপাকণা তালুকদার বলেন, ‘ধাবমান’ শুধু একটি দৃশ্যকল্পনির্ভর নাট্যপ্রযোজনা নয়; এর মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীনের লোকজ জীবনবোধ, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ককে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্ককে এখানে কোনো উপকারনির্ভর নির্ভরতা হিসেবে নয়, বরং মমতা, বিশ্বাস ও অস্তিত্বের গভীর সম্পর্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রকৃতি থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের সামনে নিজের অস্তিত্বের প্রতিচ্ছবি খোঁজার একটি প্রশ্নও তুলে ধরে নাটকটি।

আয়োজন প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা বলেন, চার দিনের এ আয়োজনের মাধ্যমে সেলিম আল দীনের নাট্যভাবনা ও সৃষ্টিশীলতাকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভাগটির শিক্ষার্থীদের মঞ্চচর্চা, অভিনয় ও প্রযোজনাকেন্দ্রিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিসরেও নানা আয়োজনে অংশ নিয়ে আসছে। এবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে টানা চার দিন সেলিম আল দীনের দুটি নাটক প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে তার নাট্যকর্ম নতুন প্রজন্মের দর্শকের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।