ইউটিউব দেখে আনারকলি চাষ, যেভাবে বদলে গেল মিঠুর ভাগ্য

ধান, কলা আর হরেক রকমের সবজি চাষের চেনা মাঠে এবার দেখা মিলেছে নতুন দৃশ্যের। লতানো গাছের গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘আনারকলি’ নামে। মেহেরপুরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের যুবক মিঠু।
ইউটিউবে ভিডিও দেখে শুরু হওয়া স্বপ্ন এখন দেড় বিঘা জমিজুড়ে ফল-ফুলে রঙিন রূপ নিয়েছে। প্রতিটি গাছের ডালে ডালে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আনারকলি। আর মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শুরু হবে ফল বিক্রি। প্রথমবারের এই আবাদে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে মৌসুম শেষে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি। মিঠু সফল হলে মেহেরপুর জেলার কৃষিতে যুক্ত হতে পারে নতুন একটি লাভজনক ফলের নাম।

মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের মিঠু ছোটবেলা থেকেই কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে কলাসহ বিভিন্ন সবজির ব্যবসাও করেন তিনি। প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে প্যাশন ফ্রুট চাষের একটি ভিডিও দেখে নতুন এ ফল নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় তার। এরপর ঝিনাইদহ থেকে চারা সংগ্রহ করে অন্যের জমি লিজ নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে রোপণ করেন ২৩০টি চারা।
চারা রোপণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছ যেন ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। মিঠুর দাবি, এখন পর্যন্ত বাগানে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করেননি। জৈব পদ্ধতিতেই গাছের পরিচর্যা করছেন।
মিঠু বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষির সঙ্গে জড়িত। ইউটিউবে বিভিন্ন ফল ও ফসলের ভিডিও দেখতে গিয়ে একদিন প্যাশন ফ্রুটের চাষ দেখি। নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই চাষ শুরু করি। প্রথম দিকে অনেকে হাসাহাসি করেছেন, নানা কথা বলেছেন। কিন্তু গাছে ফুল ও ফল আসার পর তাদের ধারণা বদলে গেছে। এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন।

তিনি বলেন, জমি লিজ নেওয়া, চারা, বাগান তৈরি ও পরিচর্যা মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফল বিক্রি শুরু হলে আশা করছি এ মৌসুমে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব।
মিঠুর বাগান দেখতে আসা স্থানীয় কৃষক আল আমিন, ফরজ ও ইয়াস আলী বলেন, মেহেরপুরের মাঠে এ ধরনের ফলের চাষ আগে তারা দেখেননি। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তেমন ধারণা ছিল না। তবে বর্তমানে বাগানে বিপুল পরিমাণ ফুল ও ফল দেখে তারা আগ্রহী হয়েছেন। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং রোগবালাইও কম হলে বাজারজাতের মাধ্যমে এ চাষে ভালো লাভ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ধরনের ফলের চাষের সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলতে পারে। তবে উৎপাদনের পাশাপাশি ফলটির বাজার, সংরক্ষণ ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, আমরা আশা করছি মেহেরপুরের এই কৃষি উদ্যোক্তা সফল হবেন। তার সফলতার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।