logo

৮ হাজার টাকার চুক্তিতে হত্যা, গুম করা হয় সৌরভকে

৮ হাজার টাকার চুক্তিতে হত্যা, গুম করা হয় সৌরভকে
গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম ও শাহিন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে সদর থানা পুলিশ। স্ত্রীর প্রেমের প্রতিশোধে আপন শ্যালককেই হত্যা করেন রবিউল ইসলাম।

প্রায় এক মাস চেষ্টা করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানা পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের উপজেলার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় কাপড়।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সৌরভ। তার মা কাকলী বেগম সদর থানায় অভিযোগ করলে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ। সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রবিউলের স্ত্রী নুপুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলকে ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় রবিউল প্রতিশোধের পরিকল্পনা করে।

পুলিশ আরও জানায়, সৌরভকে হত্যার জন্য রবিউল শাহিন নামের ব্যক্তির সঙ্গে ৮ হাজার টাকার চুক্তি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রবিউল, শাহিনসহ চারজন সৌরভকে মাদারীপুরের রাজৈর থানার হোসেনপুর ইউনিয়নে একটি ডোবার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ একাধিক টুকরো করে ডোবায় কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে রবিউল গ্রেপ্তার হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেখানো স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও কাপড়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর সদর থানার উপকারীদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর এশিয়া পোস্টকে জানান, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন জড়িত ছিল। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিন আদালতে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রেম ও পরকীয়া সংক্রান্ত জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ডটি করে৷ এটা করতে রবিউল শাহীনকে ৮ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করে।