logo

নোবিপ্রবিতে বহিরাগত প্রবেশ ও শোডাউন, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোবিপ্রবি
নোবিপ্রবিতে বহিরাগত প্রবেশ ও শোডাউন, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সাম্প্রতিক সময়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ও উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। এরপর গত ২৪ আগস্ট বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তির মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে হাসিবুল হোসেনের দাবি, আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতেই তার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব ক্যাম্পাসে এসেছিলেন; কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।

জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট নোবিপ্রবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের অনুসারীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকপন্থী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৯ জন আহত হন।

ঘটনার পর বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কমিটির পক্ষ থেকে আরও তিন কার্যদিবস সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে গত ২৪ আগস্ট নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে এ ঘটনাকে শোডাউন হিসেবে দেখার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাসিবুল হোসেন। ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৮ আগস্টের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। তিনি নিজেও তাদের সঙ্গে ছিলেন এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেছেন।

লিখিত বক্তব্যে হাসিবুল হোসেন আরও বলেন, তার সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত পরিচিতজন ও বন্ধু। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। তবে মোটরসাইকেলসহ তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি কোনো ধরনের আতঙ্ক, উদ্বেগ বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকে, সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে বহিরাগতদের প্রবেশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সংঘর্ষের মতো ঘটনার পরও যদি বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা মোটরসাইকেল শোডাউনের ঘটনা ঘটে, তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করেন তারা।

বহিরাগতদের প্রবেশ করানোর বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেন বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে কখনো বহিরাগত ঢোকাইনি। উল্টো সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন। ওই দিন রাতে তারা সিফাতকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেন। পরের দিন সিফাত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের নিয়ে তার ওপর হামলা করেন।

ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলেও এখনো বিচার হয়নি। এ ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউনের কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছে। সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আমরা চাই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ থাকুক।

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে প্রবেশ ও শোডাউনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, আমরা সকালে তাকে বহিরাগতদের নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেছি। সঙ্গে সঙ্গে সে চলে গিয়েছিল। এরপর দুপুরের দিকে আবার তাকে বহিরাগতসহ শোডাউন দিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা তাদের এ ধরনের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছি।